কেবল ভূমি অফিসে নয়, বাঙালির জীবনে-মননে থাকুক বঙ্গাব্দ

পয়লা বৈশাখ কবে? এর উত্তরটাও আজকাল হয় ১৪ এপ্রিল।

যে বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে এতো আয়োজন তার ব্যবহার যেনো বছরে ওই একদিন। শুধুমাত্র দেশের ভূমি অফিসে খাজনা নিতেই ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে বাংলা বছর। এই খাজনার জন্যই মোঘল সম্রাট আকবর চালু করেছিলেন বাংলা সনের। যেটি এখনও আটকে আছে খাজনার চৌকাঠে। মোঘল সম্রাট আকবর। জীবনের ১৩তম বসন্তেই সিংহাসনে আসীন। মোঘল সাম্রাজ্যের সেই ক্ষন থেকেই শাসক-প্রজার দূরত্ব ঘোঁচানোর নানা উদ্যোগে আকবর ক্রমেই হয়ে ওঠেন আকবর দি গ্রেট। তখন কৃষকরা খাজনা দিতেন চান্দ্রবর্ষ হিজরির হিসেবে। তবে এ অঞ্চলের ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে কৃষকদের ঝক্কি পোহাতে হতো বেশ। হিসাব সহজ করতে সূর্যের সাথে মিলিয়ে চালু হয় ফসলী সন। সেটিই পরে হয় বঙ্গাব্দ।

আকবরের ক্ষমতা নেয়ার বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে ৯৬৩ হিজরির পহেলা মুহররমকে ৯৬৩ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ ধরে গণনা শুরু হয় বাংলা সন। ৪৬২ বছর ধরে চলে আসা এই হিসাব নাগরিক জীবনে কতোটুকুই বা কাজে লাগে? কজনইবা খোঁজ রাখেন বাংলা পঞ্জিকার ? যে খাজনার জন্য বঙ্গাব্দের উৎপত্তি, আজও সেই খাজনা দেয়া হয় বাংলা সনের হিসেবেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়, আদালত থেকে শুরু করে জাতীয় বাজেট, সবখানেই খ্রিষ্টাব্দের ভিড়ে কেবল ভূমি কার্যালয়ে যেন নীরবে টিকে আছে বাংলা সন। শহুরে নাগরিকরা অনেকটা মনের অজান্তেই মেনে যাচ্ছেন বাংলা সনের হিসাব। যদিও তা কেবল কাগজে কলমেই। যিনি খাজনা দেন বা নেন, তারাও মানছেন দৈনন্দিন জীবনে বঙ্গাব্দের ব্যবহার নেই বললেই চলে।

এটাই বাস্তবতা। বাংলা সন এতোটাই দূরে যে, পহেলা বৈশাখের হিসেব হয় ১৪ এপ্রিলকে মাথায় রেখে। লাল সাদা শাড়ি পাঞ্জাবি ছায়ানট আর পান্তা ইলিশ এটাই এখন নববর্ষের শহুরে চিত্র। উদযাপনে শুরু-উদযাপনেই শেষ। এক সূর্যোদয় সূর্যাস্তেই আবারো জীবন থেকে যেনো অস্ত যায় বাংলা সনের হিসাব। বঙ্গাব্দ থাকুক স্বমহিমায়, স্বমর্যাদায়। কেবল ভূমি অফিসে নয়, থাকুক বাঙালির জীবনে-মননে। শুভ হোক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ।

চ্যানেল 24

387 South, Tejgaon I/A
Dhaka-1208, Bangladesh
Email: newsroom@channel24bd.tv
Tel: +8802 550 29724
Fax: +8802 550 19709

Save

Save

Like us on Facebook
Satellite Parameters
Webmail

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save