নিরাপদ পানি ব্যবহারের ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ: বিশেষজ্ঞরা

পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকা, পলি ভরাট আর সাগরের নোনা জল প্রবেশ করা, প্রধানত এই তিনকারণেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে অনেক নদী। ফল হিসেবে খড়া, বন্যার পাশাপাশি অনেক জেলায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। শুধু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি জেলার বেশিরভাগ এলাকায়ই দুই যুগ ধরে চলছে জলাবদ্ধতা। আছে নিরাপদ পানি ব্যবহারের ঝুঁকিও।

নাও নদী ঢেউ জলের নদী মাতৃক বাংলাদেশ। কিন্তু দিন দিন মরে যাচ্ছে বাংলার নদী, আর বাংলাদেশও হারিয়ে ফেলছে তার পরিচয়। শুষ্ক মৌসুমে যেমন ভুগছে খড়ায়, তেমন নাব্যতা হারিয়ে নদীর পানি উপচিয়ে হচ্ছে বন্যা।

আবার কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। যশোর, সাতক্ষীরা এবং খুলনার ওপর দিয়ে বয়ে চলা ভবদাহ, বছরের আট-নয় মাসই থাকে পানির নিচে। নাব্যতা হারানো বৃষ্টি নদী দিয়ে প্রবাহিত হতে না পারায়, আশ-পাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে এই জলাবদ্ধতা। ওই অঞ্চলের ৩৫ লাখ মানুষের ভাগ্য তাই ২০ বছর ধরে পানির বন্দি।

আবার, সমুদ্রতীরবতী নদীগুলোতে ঢুকছে নোনা পানি। হারাচ্ছে, মিঠা পানির প্রাপ্যতা। নদী খাল-বিলে, যখন ব্যবহার উপযোগি পানি নেই, তখন, বাধ্য হয়েই ব্যবহার করতে হচ্ছে ভূ-গর্বস্থা পানি। জাতিসংঘের পানি বিষয়ক সংস্থার হিসাব বলছে, বিশ্বের সর্বোচ্চ পানি নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায়, উপরের দিকেই রয়েছে বাংলাদেশের নাম। ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারই এর মূল কারণ। দেশের মোট পানির ৯০ শতাংশই মেটানো হয়, মাটির নিচের পানি দিয়ে। আর সরকারি সংস্থার আশঙ্কা, ৫০ বছর পর বাংলাদেশের তিন ভাগের দুই ভাগ এলাকাতেই দেখা দেবে মিঠা পানির ভয়াবহ সংকট।

নদীকে খনন করে আবারো প্রবাহ বাড়ানোর জন্য যখন চলছে, কর্মচজ্ঞ, অপরদিকে তখন শুরু হয়েছে দখল আর দূষন। স্থানে স্থানে জলবদ্ধ করার পেছনে আছে প্রভাবশালীদের স্বার্থও। মাছ চাষের নামে নিচু জমিতে পানি আটকে রাখা হচ্ছে। সাথে আটকে যাচ্ছে, গরীব কৃষকের ভাগ্য। কিন্তু..হাজার অভিযোগেও মেলে না নিস্তার।

তবে, মজার বিষয় হলো এই অঞ্চলের কিছু নদীর ছোট হয়ে যাওয়ার পিছনে আছে ঐতিহাসিক ভুলও।

সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে..সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে। মাইকেল মধুসুদন দত্তের কবিতা কপোতাক্ষ নদ। ১৯২৬ সালে যখন নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হয়, তখন ভুল ক্রমে কপোতাক্ষকে চিহ্নিত করা হয়, সামনের অংশ হিসেবে। আর পিছনের বিশাল জলাশয়কে করা হয় ব্যক্তিমালিকান সম্পত্তি। যার ফলে কপোতাক্ষের সাগরদাড়ি অংশের বর্তমান অবস্থা এমন জীর্নশীর্ণ। আর বড় অংশ হয়েছে মাছের ঘের। সাজিদ হক, চ্যানেল

চ্যানেল 24

387 South, Tejgaon I/A
Dhaka-1208, Bangladesh
Email: newsroom@channel24bd.tv
Tel: +8802 550 29724
Fax: +8802 550 19709

Save

Save

Like us on Facebook
Satellite Parameters
Webmail

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save