রেডিও মিউজিয়াম ও একজন মোফাজ্জল | বিশেষ সংবাদ

CHANNEL 24



Back প্রচ্ছদ বিশেষ সংবাদ রেডিও মিউজিয়াম ও একজন মোফাজ্জল

রেডিও মিউজিয়াম ও একজন মোফাজ্জল

"পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্তলাল রক্তলাল রক্তলাল" স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এমন সুরের মন্ত্রনায় একদিন অস্ত্র ধরেছিল বাঙালি জেগেছিল ৭ কোটি প্রাণ।

দেশের আনাচে কানাচে রেডিওতে সেদিন বেজেছিল মুক্তির ব্যঞ্জনা। ৭১ এর যন্ত্রসৈনিক এমন রেডিওগুলোকেই গেল ৩ দশক ধরে সংগ্রহ করছেন মোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। সংগ্রহে থাকা দেশি-বিদেশি প্রায় ছ'শতাধিক রেডিও নিয়ে স্বপ্ন দেখেন একটি সংগ্রহশালা করার।

দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুক্তি সেনারা উদ্দীপ্ত হতেন স্বাধীনতার চেতনায় রক্তে আগুন ধরানো এই গান গুলো শুনেই। তাদের কাছে মুক্তির গান আর যুদ্ধের বার্তা পৌঁছে দিত রেডিও। সেই স্মৃতিকে স্মরণ রেখেই ১৯৮৫ সাল থেকে রেডিও সংগ্রহে নামেন মোফাজ্জল হোসেন।

এ যেনো এক রেডিও রাজ্য। নানা রং আর ঢংয়ের প্রায় ছশোরও বেশি রেডিও।

রেডিও জন্মের শুরুর দিককার বিশ্বখ্যাত নানা ব্র্যান্ডের রেডিও আছে এখানে। এই যেমন ১৯৪৭ সালে হল্যান্ডের তৈরি ফিলিপস কোম্পানীর রেডিও। এছাড়ও রয়েছে ব্রিটিশ কোম্পানী গ্যারারর্ড তৈরি শত বছরে পুরানো গ্রামোফোন। যা সূরের মূর্ছনা ছড়াতো ভাওয়াল গড়ের রাজবাড়িতে।

জার্মানির গুনডিগ, টেলিফানকেন, মার্ফি। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিটন, বুশ, জেনিথ। ইংল্যান্ডের স্লিমলাইন স্টেরিও, গ্যারার্ড, রাশিয়ার টেন্টো ভি ই এফ, শ্যানাইডার, জাপানের তোশিবা, সনি, ন্যাশনাল, কেসিওসহ- বিশ্বের কমপক্ষে আটটি দেশের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্র্যান্ডের দেখা মিলবে এখানে। ঘরি মেরামতকারি মোফাজ্জল হোসেনের রেডিও সংগ্রহের সাথে জড়িয়ে আছে করুণ আর ভয়াল গল্পও।

চমকপ্রদ নানা আকার-আকৃতির রেডিওর দেখা মিলবে মোফাজ্জলের সংগ্রহ শালায়। কোকের বোতল বা স্বর্পিল রেডিও। আবার এটিএম কার্ডের মতো রেডিও পাওয়া যাবে এই সংগ্রাহকের ভান্ডারে। আছে ঘড়ির মতো মাত্র এক ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের রেডিও। এতো সমাহার থাকলেও, সংগ্রাহকের নেই কোন সুনির্দিষ্ট সংগ্রহশালা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রেডিও। আর তাই গত ত্রিশ বছর ধরে রেডিও সংগ্রহ করছেন এই সংগ্রাহক। এখন চান নতুন প্রজন্মকে এগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, চান মুক্তিযুদ্ধে রেডিওর অবদান স্মরণ করিয়ে দিতে। আর চান সরকারের একটু সুদৃষ্টি।