Monday, July 24, 2017

728x90

হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত যারা

মিথ্যা ঘোষণায় ৯০ কনটেইনারে পণ্য আমদানির আড়ালে, হাজার কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে যোগশাজস ছিল আইএফআইসি ব্যাংক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দরেরর কিছু অসাধু কর্মকর্তার। এমন তথ্য মিলেছে, শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে।এতে দায়ী করা হয়েছে, কনটেইনার স্ক্যানিংয়ে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এসজিএসকেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএফআইসি ব্যাংকের নয়াপল্টন ও মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা, খোরশেদ আলমের নামে অ্যাকাউন্ট ও এলসি খোলা থেকে সবধরনের অনিয়ম করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের সবচেয়ে বড় এই সমুদ্র বন্দরে বেড়েছে অত্যাধুনিক  প্রযুক্তির ব্যবহার।

এরপরেও এখানে নিরবে ঘটে চলেছে মিথ্যা ঘোষনার অবৈধ পণ্য আমদানি এবং এর আড়ালে মুদ্রা পাচার। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মুদ্রা পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে। আটক ১২ কন্টেইনারের আড়ালে আরও ৭৮টির মাধ্যমে পাচার হয়েছে হাজার কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠেছে শুধু ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে আর সই জালিয়াতি করে এত বিশাল অঢ়কে টাকা পাচার করা সম্ভব কিনা? অনুসন্ধান বলছে এই পুরো কার্যক্রমকে সফল করতে স্তরে স্তরে কাজ করছে বন্দ, কাস্টমস ও আইএফআইসি ব্যাংকের নয়াপল্টন ও মতিঝিল শাখার কর্মকর্তারা।

জাহাজ থেকে খালাসের সময় কনটেইনারের ভেতর কি আছে তা দেখেনি দ্বায়িত্বরত কাসটমস কর্মকর্তারা। এরপর বেসরকারি সংস্থা এসজিএসের নিয়ন্ত্রনাধীন উচ্চ প্রযুক্তির স্ক্যানারে এসব কনটেইনার পরীক্ষা করার কথা। কাগজে কলমে স্ক্যান রিপোর্ট থাকলেও এসজি এস বলছে তা সেখানে হয়ই নি! তাদের দাবি কেউ তাদের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে ভুয়া ইমেইল পাঠিয়েছে কাস্টমসকে।

স্ক্যান রিপোর্ট পাওয়ার পর গেইট দিয়ে একে একে বেরিয়ে গেছে ৭৮টি কনন্টেইনার। অনুসন্ধানে গিয়ে পাওয়া যায় এই কাস্টমস কর্মকর্তাকে যিনি আলোচিত এসব কনটেইনার ছাড় করিয়েছিলেন। তার কাছে রাখা নথি ঘেটে দেখা যায়, খুব স্বাভাবিক ভাবে কোন নজনদারি ছাড়াউ কনন্টেইনার গুলো বেরিয়ে গেছে। তবে এই কর্মকর্তার দাবি, এসজিএসের স্ক্যানিং মেইল পেয়েই তিনি এগুলো ছাড় করেন।

কাস্টমসের ছাড়পত্র পাওয়ায় আপত্তি করেননি বন্দরের গেইট ডিভিশনের দায়িত্বরত কর্মীরাও।

এভাবেই ৭৮ কনন্টেইনার ছড়ে পদে পদে ঘটেছে অনিয়ম। চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার জানান, পণ্যগুলো শিল্পের যন্ত্রপাতি ঘোষনায় মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক হওয়ায় তা পরীক্ষা করা হয়নি।

গন্তব্য আইএফআইসি ব্যাংকের নয়াপল্টন শাখা। যেখানে ভূয়া আমদানী কারক সাজিয়ে খোরশেদ আলমের নামে অ্যাকাউন্ট খুলেন সিনিয়র অফিসার মেহেদী হোসেন। যিনি খোরশেদ আলমের সব পরিচিতি, কাগজপত্র পরীক্ষা না করেই এবং যার নামে কন ব্যাবসা বাশির্প প্রতিষ্ঠান না থাকা সত্বেও তা যথাযথ এবং পরিদর্শন করেছেন বলে রিপোর্ট দিয়েছেন। এরপর ঋণপত্র খোলা, দেশে আমদানী কারক ও সিংঙ্গাপুরের রপ্তানি কারক যমনাজ ইন্ডিস্ট্র্রিজ সম্পর্কে তথ্য যাচাই করার পুরো প্রক্রিয়ার সাথেই ছিলেন একই শাখার কাজী নওশাদুজ্জামান।ব্যাংকে গিয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টাকরেও তাদে  কোন হদিস পাওয়া যায়নি।যাদও এরা ঘটানার পর একে অন্যের উপর দায় চাপাচ্ছেন। তবে তাদের দেয়া লিখিত বক্তব্যে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

একই অবস্থা মতিঝিল ফেডারেশন শাখায়। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জেসমিন আক্তার, জাহর উদ্দিন ফেরদৌস সহ সংশ্লিষ্টদের দ্বায়িত্ব ছিল ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করার। অথচ তারা কেউই দায়িত্ব পালন করেননি।

ব্যাংটির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শাহআলম সারোয়ারে বক্তব্য জানতে প্রধান কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি অন্য কেউই মুখ খুলতে চাননি। পরে তাকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

Last modified on 12-07-2017 08:08:15 PM

চ্যানেল 24

387 South, Tejgaon I/A
Dhaka-1208, Bangladesh
Email: info@channel24bd.tv
Newsroom: newsroom@channel24bd.tv
Tel: +8802 550 29724
Fax: +8802 550 19709

Save

Like us on Facebook
Satellite Parameters
Webmail

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save

Save